The NewsNest Desk : বাড়ির পোষ্য কুকুর-বিড়াল থেকে শুরু করে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো প্রাণী, জঙ্গলের বন্যপ্রাণী কিংবা আকাশে উড়ে যাওয়া পাখি—মানুষের পৃথিবী আসলে তাদেরও পৃথিবী। অথচ মানুষের তৈরি শহর, রাস্তা, দূষণ, আবাসস্থল ধ্বংস এবং নানা ধরনের নির্যাতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে প্রাণীদের উপরেই। সেই সম্পর্ক, দায়িত্ব এবং animal welfare নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন আজ, ৪ অক্টোবর। আজ পালিত হচ্ছে World Animal Day বা বিশ্ব প্রাণী দিবস।
বিশ্ব প্রাণী দিবস শুধু প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি দিন নয়। বরং প্রাণীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং তাদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এই দিনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বিশ্ব প্রাণী দিবসের আয়োজক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনকে কেন্দ্র করে animal welfare সংক্রান্ত নানা কর্মসূচি, সচেতনতা প্রচার এবং প্রাণী সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কেন ৪ অক্টোবর বিশ্ব প্রাণী দিবস?
এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। বিশ্ব প্রাণী দিবসের ধারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জার্মান লেখক ও প্রকাশক হাইনরিখ জিমারম্যান। ১৯২৫ সালে বার্লিনে প্রথম World Animal Day অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে World Animal Day-এর তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে ১৯২৯ সালে দিনটি ৪ অক্টোবর করা হয়। তারিখটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসি-র সঙ্গে এর সম্পর্ক। প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণ করা হয়। ১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
শুধু পোষ্য নয়, রাস্তার প্রাণীদের কথাও ভাবতে হবে
Animal welfare নিয়ে আলোচনা হলেই অনেক সময় পোষ্য কুকুর বা বিড়ালের কথা সামনে আসে। কিন্তু প্রাণী সুরক্ষার পরিধি আরও অনেক বড়। শহরের রাস্তার কুকুর-বিড়াল, আহত পাখি, পরিত্যক্ত প্রাণী—সবাই এই আলোচনার অংশ।
একটি প্রাণীকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা যতটা সহজ, তার খাবার, চিকিৎসা, টিকাকরণ এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, রাস্তার প্রাণীদের প্রতিও অকারণে অত্যাচার না করা, তাদের খাবার বা পানির ব্যবস্থা করা এবং আহত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও animal protection-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্ব প্রাণী দিবস তাই মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি শুধু এক দিনের আবেগ নয়, প্রতিদিনের আচরণের মধ্যেও তার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
প্রাণী সুরক্ষা মানেই প্রকৃতি সুরক্ষা
প্রাণীদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের কথাও সামনে আসে। বন ধ্বংস, আবাসস্থল কমে যাওয়া, অবৈধ শিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কারণে বহু প্রাণী আজ অস্তিত্বের সংকটে। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের আনুমানিক ৮০ লক্ষ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ কারণেই wildlife conservation শুধু বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয় নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত। একটি প্রাণী বা একটি প্রজাতি হারিয়ে গেলে তার প্রভাব পুরো বাস্তুতন্ত্রের উপর পড়তে পারে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে প্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানো জরুরি।
আজকের দিনে কী করা যায়?
বিশ্ব প্রাণী দিবসে বড় কোনও আয়োজন না করেও ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানো যায়। বাড়ির আশপাশে তীব্র গরমে পানির পাত্র রাখা, আহত প্রাণী দেখলে স্থানীয় পশু চিকিৎসক বা animal rescue সংগঠনের সাহায্য নেওয়া, পোষ্য প্রাণীর নিয়মিত চিকিৎসা ও টিকাকরণ নিশ্চিত করা কিংবা কোনও প্রাণীকে অকারণে ভয় দেখানো বা মারধর না করা—সবই animal care-এর অংশ।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও সচেতনতা তৈরির সুযোগ রয়েছে। তবে প্রাণী উদ্ধারের নামে সাজানো বা নিষ্ঠুর ভিডিও ছড়ানো থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে World Animal Day-এর প্রচারমূলক উপকরণ। প্রাণীদের নিয়ে তৈরি কনটেন্ট যেন তাদের কষ্টকে বিনোদনে পরিণত না করে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
আজকের দিনটি তাই শুধু ‘Happy World Animal Day’ বলার দিন নয়। বরং এক মুহূর্ত থেমে ভাবার দিন—আমাদের চারপাশে থাকা প্রাণীদের জন্য আমরা কী করছি? কারণ মানুষই যদি তাদের পৃথিবীকে আরও নিরাপদ করে তুলতে পারে, তবেই animal welfare, animal protection এবং প্রকৃত অর্থে মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।