জামুই, ২১ সেপ্টেম্বর: সন্ধ্যার রাস্তায় স্কুটার থামিয়ে ঘিরে ধরা হয়েছিল দুই কিশোর-কিশোরীকে। চারপাশ থেকে একের পর এক প্রশ্ন, বাধা, মারধরের অভিযোগ। তার মধ্যেই কিশোরীকে অশালীন ভাবে স্পর্শ এবং টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় বিহারের জামুইয়ে। ভিডিয়ো সামনে আসার পর সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে।
ঘটনাটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামুইয়ের দশম শ্রেণির ওই দুই পড়ুয়া কোচিং থেকে স্কুটারে করে ফিরছিল। মারওয়া পাহাড় এলাকা থেকে ফেরার পথে একদল যুবক তাঁদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন যুবক দু’জনকে ঘিরে রেখেছে।
অভিযোগ, সেই সময় এক যুবক তাঁকে অশালীন ভাবে স্পর্শ করেন। আরও এক জন কিশোরীকে তুলে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। অন্য একটি ফুটেজে কিশোরী ও তাঁর বন্ধুকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা যায়। কিশোরের সঙ্গেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিয়োয় দেখা স্কুটারের নম্বরের সূত্র ধরে দুই পড়ুয়ার সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এবং ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। মামলায় পকসো আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনা নিয়ে সরব বিরোধীরাও। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, সন্ধ্যার পর বিহারের রাস্তায় একটি মেয়ে কেন নিরাপদ থাকবে না? তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি ‘পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা’র প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনার নিন্দা করেছে জাতীয় মহিলা কমিশনও। কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিষয়টি গ্রহণ করে বিহারের ডিজিপির কাছে রিপোর্ট চেয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
অন্য দিকে, জামুইয়ের সাংসদ অরুণ ভারতী ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তবে বিরোধীদের ‘জঙ্গলরাজ’-এর অভিযোগের সঙ্গে তিনি একমত নন এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি করেছেন।