জামতাড়া, ১৮ সেপ্টেম্বর: ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার ধুলোবালিমাখা পথ থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর জীবনযাত্রা। পেশায় দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের জাতীয় সড়কগুলোতে ভারী লরি চালাতেন রাজেশ রাওয়ানি। কিন্তু কে জানত, রাস্তার ধারের সাদামাঠা রান্নাবান্না আর প্রাত্যহিক জীবনের ভিডিও তাঁকে একদিন পৌঁছে দেবে ডিজিটাল স্টারের আসনে! আজ ইউটিউবে তাঁর চ্যানেল ‘আর রাজেশ ভ্লগস’ -এর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ত্রিশ লাখের কাছাকাছি এবং মোট ভিউ ছাড়িয়ে গেছে একশো কোটি।
মহাসড়কের রন্ধনশালা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে
রাজেশের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার শুরু নিছক রান্নার প্রতি ভালোবাসা থেকে। সুদূর লরি চালানোর ক্লান্তিকর দূরপাল্লার যাতায়াতের ফাঁকে হাইওয়ের ধারে গাড়ি থামিয়ে নিজের খাবার নিজে রাঁধতেন তিনি। মটন, চিকেন, মাছ কিংবা পনির—নানা পদের সুস্বাদু রান্নার ভিডিও তিনি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতেন পরিবারের সদস্যদের কাছে।
পরিবারের তাগিদেই ছেলের হাত ধরে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। রাজেশের ছেলে সাগর রাওয়ানি বাবার পাঠানো সেই ক্লিপগুলো এডিট করে ২০২১ সালে ইউটিউবে ‘আর রাজেশ ভ্লগস’ নামে একটি চ্যানেল চালু করেন। রান্নার পিছনের আসল মানুষটিকে দেখার জন্য দর্শকদের প্রবল আগ্রহের মুখে একটি মুখ উন্মোচন বা ফেস-রিভিল ভিডিও আপলোড করা হয়। আর তাতেই ঘটে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ ভিউয়ের ইতিহাস! রাতারাতি বদলে যায় তাঁদের ভাগ্য।
আরও পড়ুন: Irregular Periods: অনিয়মিত পিরিয়ডস? এই সব খাবার নিয়ম করে খেলে মিলবে উপকার
মাসিক আয়ে রূপান্তর ও বিখ্যাত শিল্পীর প্রশংসা
আর্থিক দিক থেকেও এই পরিবর্তন ছিল নাটকীয়। লরি চালক হিসেবে কাজ করার সময় রাজেশের মাসিক আয় ছিল মোটে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েশনের সুবাদে তাঁর মাসিক আয় বেড়ে দাঁড়ায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায়, এমনকি কোনো কোনো মাসে সেই আয় ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছিল। তাঁর এই পরিশ্রম ও ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প নজর কাড়ে ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি আনন্দ মহিন্দ্রারও। সামাজিক মাধ্যমে রাজীবের জেদ ও অধ্যাবসায়কে কুর্নিশ জানান মহিন্দ্রা গ্রুপের কর্ণধার।
ভারতের ‘সবচেয়ে বিলাসবহুল ট্রাক’
ডিজিটাল দুনিয়া থেকে অর্জিত আয়ের বড় একটি অংশ দিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন রাজেশ। গত জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ভিডিওর মাধ্যমে তিনি তাঁর নতুন ও বিশেষভাবে পরিবর্তিত বিলাসবহুল ট্রাকের রূপান্তর অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।আরামদায়ক অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জা, কাস্টম-বিল্ড স্টোরেজ ক্যাবিনেট, ফুল এয়ার কন্ডিশনিং এবং দীর্ঘ যাত্রার ধকল সওয়ার মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সাজানো হয়েছে তাঁর এই বাহনটিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘ভারতের সবচেয়ে বিলাসবহুল ট্রাক’ হিসেবে।
অতীতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর হাতের চোট পাওয়ার পরও হার মানেননি রাজেশ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ও নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে আজো তিনি মহাসড়কের চাকা ঘোরান, তবে এখন তাঁর সেই যাত্রাপথে সঙ্গী হয়েছেন সারা দেশের কোটি কোটি মানুষ।