The NewsNest Desk : মহাষ্টমীর উৎসবের মধ্যেই শেয়ারবাজারে বড়সড় ধাক্কা। সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিন, সোমবার ১৯ অক্টোবর, এক শতাংশেরও বেশি পতন হল সেনসেক্স ও নিফটি-৫০ সূচকে। দিনের শেষে সেনসেক্স পড়ল ৮৭৬ পয়েন্টেরও বেশি। অন্যদিকে, নিফটি-৫০-ও নেমে গেল ২২,৯০০ পয়েন্টের নিচে। দুই প্রধান সূচকের পতনে বাজারে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা কমে গেল। পুজোর আগে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখে যাঁরা আশাবাদী হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ।
বাজারের এই পতনের পিছনে মূলত তিনটি বিষয়কে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা—আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি।
দিনের শেষে কোথায় দাঁড়াল সেনসেক্স ও নিফটি?
সোমবার লেনদেন শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) সেনসেক্স থামে ৭৩,৮৫২.৯০ পয়েন্টে। আগের লেনদেনের তুলনায় সূচকটি ৮৭৬.৩৮ পয়েন্ট বা ১.১৭ শতাংশ নেমেছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) নিফটি-৫০ পড়েছে ২৫৭.২০ পয়েন্ট বা ১.১১ শতাংশ। দিনের শেষে এই সূচকের অবস্থান ছিল ২২,৮৮৮.৯৫ পয়েন্টে।
বাজারের এই পতনের প্রভাব পড়েছে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজারমূল্যেও। বিএসইতে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য আগের লেনদেনে প্রায় ৪৭২.৬ লক্ষ কোটি টাকা থাকলেও তা কমে প্রায় ৪৬৯ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে আসে। অর্থাৎ, এক দিনের ধাক্কায় বাজারমূল্য থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা কমে গিয়েছে।
১. অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতীয় শেয়ারবাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করে। ভারত অপরিশোধিত তেলের চাহিদার বড় অংশ আমদানি করে মেটায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এর পাশাপাশি, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমলে শেয়ারবাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
২. বেসরকারি ব্যাঙ্কের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ
শেয়ারবাজারের পতনের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের ফলাফল প্রকাশের পর কয়েকটি ব্যাঙ্কের পারফরম্যান্স নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এবং ইয়েস ব্যাঙ্কের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাজারের উপর প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের শেয়ারে দুর্বলতা দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে নিফটি ব্যাঙ্ক সূচকেও। ফলে সামগ্রিক বাজারের পতন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের শেয়ারের পতনের প্রকৃত কারণ বুঝতে তার আর্থিক ফলাফল, ঋণের গুণমান এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসার পূর্বাভাস আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
৩. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি অব্যাহত
ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অক্টোবর মাসে এখনও পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চলতি মাসে তাঁদের শেয়ার বিক্রির চাপ বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কে শেয়ার বিক্রি করলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায় এবং ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকলে সূচক নিম্নমুখী হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, তেলের দাম, সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন দেশের বাজারের গতিপ্রকৃতি বিদেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
পুজোর বাজারে এখন কোন দিকে নজর?
মহাষ্টমীতে শেয়ারবাজারের এই পতন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের গতিপ্রকৃতি, ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক ফলাফল এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের উপর নজর থাকবে বাজার বিশেষজ্ঞদের। এই বিষয়গুলির উন্নতি হলে বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকলে সূচকে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এক দিনের পতন দেখেই বাজারের দীর্ঘমেয়াদি গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিনিয়োগের আগে সংস্থার আর্থিক অবস্থা, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং নিজের বিনিয়োগের সময়সীমা বিবেচনা করা জরুরি।