বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’। সোমবার, ২ নভেম্বর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলায় আপাতত বড়সড় দুর্যোগের কোনও পূর্বাভাস দেয়নি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা।
ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর গতিপথ
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ঝড়টি ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায়, ওঙ্গোলের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
বাংলার কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার, ২ নভেম্বর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু জায়গাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকবে।
৪ নভেম্বর থেকে কি বৃষ্টি কমবে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির দাপট কমতে পারে। ফলে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে সাময়িক বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলেও বাংলায় দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত নেই।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের একাধিক এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।