The NewsNest Desk: গ্রাহকদের অজান্তে সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও স্থায়ী আমানত থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (পিএনবি)। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি শাখায় এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই চাপে পড়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্ক সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৪৩ লক্ষ টাকার তিনটি দাবির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২১ জন গ্রাহক ১১.২৪ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের দাবি, প্রত্যেকের এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ খোয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েক জন গ্রাহকের দাবি, সব মিলিয়ে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা হতে পারে।
অভিযোগ, শুধু সেভিংস অ্যাকাউন্টের টাকা নয়, গ্রাহকদের স্থায়ী আমানত এবং মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা অর্থও এই অনিয়মের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার সুরজপুরের বাসিন্দা শ্রীচন্দের অভিযোগ, তাঁর স্থায়ী আমানত থেকে ১.১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গ্রাহকদের একাংশের দাবি, নিজেদের অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স পরীক্ষা করতে গিয়ে কিংবা টাকা তুলতে গিয়ে তাঁরা প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের অনুমতি ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি, এই লেনদেন সম্পর্কে কোনও আগাম সতর্কবার্তা বা বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পর একটি বিবৃতি দিয়ে পিএনবি জানিয়েছে, অভিযোগগুলির প্রকৃত সত্যতা এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সহযোগিতা করছে ব্যাঙ্ক। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা এবং আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার অভিযোগের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না।