দার্জিলিং: সান্দাকফু ও ফালুট ভ্রমণে যাওয়ার আগে এ বার থেকে পর্যটকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। এক মাসের মধ্যে দুই পর্যটকের মৃত্যুর পর পর্যটকদের নিরাপত্তায় এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সান্দাকফু ও ফালুটগামী ট্রেকার এবং ল্যান্ডরোভারে যাত্রা করা পর্যটকদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। সার্টিফিকেট না থাকলে মানেভঞ্জন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত প্রমাণিত হলে আর উপরে ওঠার অনুমতি মিলবে না।
২৭ অক্টোবর জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ এই সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করেছে। নির্দেশিকায় ট্রেকিং এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, গাইড, পোর্টার এবং সিঙ্গালিলা ল্যান্ডরোভার অ্যাসোসিয়েশনকে পর্যটকদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সান্দাকফু ও ফালুটে অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে পর্যটকদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সান্দাকফুতে ট্রেকিং করতে গিয়ে মৃত্যু হয় কোচবিহারের তুফানগঞ্জের ২৬ বছরের প্রিয়তোষ অধিকারীর। এর পর ২০ অক্টোবর সান্দাকফু থেকে ফেরার পথে টুমলিংয়ে মৃত্যু হয় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ৪৮ বছরের বুবাই পালের। এই দুই ঘটনায় পর্যটকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাত্রাপথে কারও তীব্র মাথাব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি কিংবা হাঁটতে অসুবিধা হলে অবিলম্বে তাঁকে আরও উঁচুতে ওঠা থেকে বিরত রাখতে হবে। দ্রুত নীচে নামিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের উচ্চতাজনিত অসুস্থতার লক্ষণ এবং পর্যাপ্ত জলপানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে।
মানেভঞ্জন থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটারের পাহাড়ি পথে যাত্রার সময় ল্যান্ডরোভার চালক ও গাইডের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিঙ্গালিলা ল্যান্ডরোভার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন প্রধান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পর্যটকদের সুবিধার্থে সান্দাকফু বা টংলু-টুমলিং এলাকার কাছে স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: World Heritage: আবহাওয়ার পরিবর্তনে ক্ষয়ে যাচ্ছে রূপকথার ‘ফেরি চিমনি’, সংরক্ষণ শুরু করল তুরস্ক