The NewsNest Desk : ইউরোপের অধিকাংশ দেশে রবিবার, ২৫ অক্টোবর থেকে শীতকালীন সময় কার্যকর হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ের অবসান ঘটিয়ে এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ঘড়ির কাঁটা। এর ফলে রাতের হিসাবে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা পাওয়া গেলেও সন্ধ্যায় তুলনামূলক দ্রুত অন্ধকার নামবে। পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই সময় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। খবর ইউরোনিউজের।
ইউরোপের বহু দেশে বছরে দু’বার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের নিয়ম চালু রয়েছে। মার্চ মাসের শেষ রবিবার গ্রীষ্মকালীন সময় শুরু হলে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হয়। অক্টোবরের শেষ রবিবার সেই সময়ের অবসান ঘটিয়ে ঘড়ির কাঁটা আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দেশগুলি নিজেদের প্রচলিত মান সময় বা স্ট্যান্ডার্ড টাইমে ফিরে যায়।
কোন দেশে কীভাবে বদলাল সময়?
পর্তুগালের মূল ভূখণ্ডের লিসবন ও পোর্তোর মতো শহরে স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে রাত ১টা করা হয়েছে। মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জেও একই নিয়মে সময় পরিবর্তন হয়েছে। তবে আজোরেস দ্বীপপুঞ্জে স্থানীয় সময় রাত ১টা থেকে ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে রাত ১২টায় নেওয়া হয়েছে।
জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও গ্রিসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশেই ২৫ অক্টোবর গ্রীষ্মকালীন সময় শেষ হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও এই সময় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে।
তবে সব দেশে ঘড়ির কাঁটা একই স্থানীয় সময়ে পিছিয়ে দেওয়া হয় না। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের সময় অঞ্চল আলাদা হওয়ায় ঘড়ি পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সময়ও আলাদা। সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় সময় মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
কেন ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দেওয়া হয়?
গ্রীষ্মকালীন সময় চালুর মূল উদ্দেশ্য দিনের আলোকে দৈনন্দিন কাজে বেশি ব্যবহার করা। বসন্ত ও গ্রীষ্মে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখলে সন্ধ্যায় তুলনামূলক বেশি সময় দিনের আলো পাওয়া যায়। শীতকালে দিনের আলোর সময় কমে এলে ঘড়ির কাঁটা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। এতে সকালে তুলনামূলক আগে আলো পাওয়া যায়, যদিও সন্ধ্যায় অন্ধকারও আগে নামে।
এই নিয়মের পক্ষে যুক্তি থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, বছরে দু’বার সময় পরিবর্তনের ফলে মানুষের ঘুমের অভ্যাস ও দৈনন্দিন কাজের ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে। আবার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার বাস্তব উপকার কতটা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নিয়ম তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা এখনও ঝুলে
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বছরে দু’বার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের নিয়ম তুলে দেওয়ার উদ্যোগ কয়েক বছর আগেই শুরু হয়েছিল। ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই ব্যবস্থা বন্ধ করার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। পরিকল্পনা ছিল, সদস্য দেশগুলি স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় অথবা মান সময়ের মধ্যে একটি ব্যবস্থা বেছে নেবে।
কিন্তু কোন দেশ কোন সময় স্থায়ীভাবে অনুসরণ করবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। বিভিন্ন দেশের মধ্যে পরিবহণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। ইউরোনিউজের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরও ইউরোপের দেশগুলিকে আগের নিয়মেই ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
ফলে ২০২৬ সালেও ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন সময়ের অবসান ঘটিয়ে শীতকালীন সময় চালু হলো। পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থা বন্ধ করার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।