The NewsNest Desk : তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের জমি নিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়। গুজরাতের ভদোদরায় তাঁর বাড়ির পাশের প্রায় ৯৭৮ বর্গমিটার জমি বরাদ্দের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমির ৫০০ বর্গমিটার বিনামূল্যে দেওয়া হবে। বাকি ৪৭৮ বর্গমিটার বাজারদরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ ছাড়ে বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখনও ভদোদরা পুরনিগমের স্ট্যান্ডিং কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন।
২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তৃণমূল ছেড়ে আরও কয়েক জন সাংসদের সঙ্গে এনডিএ শিবিরে যোগ দেন তিনি। তার কয়েক মাসের মধ্যেই গুজরাত সরকারের এই জমি বরাদ্দের প্রস্তাব সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ভদোদরার তান্ডলজা এলাকায় পরিবারের বাড়ির পাশের ওই জমি নিয়ে ইউসুফের সঙ্গে পুরনিগমের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে জমিটি ৯৯ বছরের লিজে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি। প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই জমি বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রথমে ভদোদরা পুরনিগম সম্মতি দিলেও ২০১৪ সালে গুজরাত সরকার সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, সরকারি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রকাশ্য দরপত্রের প্রয়োজন।
এর পরেও জমি নিয়ে বিরোধ মেটেনি। ২০২৪ সালের জুনে, তৃণমূলের সাংসদ হওয়ার দু’মাস পর, ওই জমিতে বেআইনি দখলের অভিযোগ তুলে ইউসুফকে নোটিস পাঠায় পুরনিগম। নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
২০২৬ সালের জুনে মামলার শুনানিতে জমি আনুষ্ঠানিক ভাবে বরাদ্দ না হওয়া এবং তার জন্য অর্থ জমা না পড়া সত্ত্বেও কী ভাবে সেখানে দখল ও বেড়া দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। পরে জমি বরাদ্দের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করলেও চলতি বছরের অগস্টে ইউসুফের আইনজীবী জানান, রাজ্য সরকারের নীতি অনুযায়ী বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা চলছে। এরপর আবেদন প্রত্যাহার করা হয়।
নতুন প্রস্তাবে পুরনিগমের মালিকানাধীন ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্যে ৫০০ বর্গমিটার বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাকি জমির দাম নির্ধারণ করা হবে ভদোদরা আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মূল্যায়ন কমিটির ধার্য করা হারের ৫৫ শতাংশ অনুযায়ী। অর্থাৎ, ওই অংশে ৪৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৪ সালে রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও নগর আবাসন দপ্তরের জারি করা একটি সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট শর্ত মেনেই বরাদ্দ করা হবে জমি।
ভদোদরা পুরনিগমের কমিশনারের পেশ করা প্রস্তাবটি ২৩ অক্টোবর পুরনিগমের বিজেপি-শাসিত স্ট্যান্ডিং কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই অনুমোদন মিললে জমি বরাদ্দের পথ আরও পরিষ্কার হবে।
তবে এই জমি বরাদ্দের প্রস্তাব এবং ইউসুফ পাঠানের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা জমি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্ক