The NewsNest Desk: মার্চেন্ট নেভি অফিসার স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খুন করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে সিমেন্টভর্তি নীল ড্রামে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড হল মুসকান রাস্তোগি ও তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লের। বুধবার মেরঠের আদালত দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছিল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১২৬টি শুনানি এবং ২২ জন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
দু’সপ্তাহ আগেই সৌরভ রাজপুত হত্যাকাণ্ডে মুসকান ও সাহিলকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। বুধবার সাজা ঘোষণার সময় বিচারক জানান, দু’জনে মিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। খুনের পর দেহ গোপন করার যে পদ্ধতি তাঁরা নিয়েছিলেন, তা সমাজে আতঙ্ক তৈরি করে। এই অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাঁদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মেরঠের ইন্দ্রনগরে নিজের বাড়িতেই খুন হন সৌরভ রাজপুত। অভিযোগ, প্রথমে তাঁর খাবারে ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচৈতন্য করে দেন স্ত্রী মুসকান। এর পর বাড়িতে আসেন মুসকানের প্রেমিক সাহিল শুক্ল। দু’জনে মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সৌরভকে আঘাত করে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে সৌরভের দেহ স্নানঘরে নিয়ে গিয়ে মোট ১৫টি টুকরো করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। দেহাংশগুলি লুকিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয় একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম। তার মধ্যে বালি, জল ও সিমেন্ট ঢেলে দেহাংশগুলি রাখা হয়। পরে সিমেন্ট দিয়ে ড্রামের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের কাছে ওই নীল ড্রামটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে। সৌরভের দেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা সামনে আসে।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর মুস্কান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে চলে যান। এদিকে সৌরভের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মেসেজ পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, ব্যবসার কাজে বাইরে রয়েছেন সৌরভ। কিন্তু দীর্ঘদিন তাঁর কোনও খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্তে নেমে পুলিশ বাড়ি থেকে সিমেন্টভর্তি নীল ড্রাম উদ্ধার করে। ড্রাম কেটে সেখান থেকে সৌরভের দেহাংশ বের করা হয়। এর পর মুসকান ও সাহিলকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিচার চলাকালীন একাধিক সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করে সরকারপক্ষ। স্থানীয় দোকানিরা সাক্ষ্য দিয়ে জানান, নীল ড্রাম, ছুরি, বস্তা, বালি ও সিমেন্টের মতো সামগ্রী মুসকান কিনেছিল। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং টাওয়ার লোকেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মুস্কান ও সাহিলের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। হিমাচল প্রদেশের হোটেলে তাঁদের একসঙ্গে থাকার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সৌরভের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে।
আদালতে মোট ১২৬টি শুনানি হয় এবং ২২ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে মুস্কান রস্তোগী ও সাহিল শুক্লকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। সৌরভ রাজপুত হত্যাকাণ্ডে এই রায় মেরঠের অন্যতম আলোচিত অপরাধ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি নিয়ে এল।