India is heading towards an ageing population as falling fertility and rising life expectancy could create major economic challenges in the coming decades.

INDIA উন্নত দেশের স্বপ্নের মাঝেই বড় সংকেত, ‘বৃদ্ধ’ দেশের পথে ভারত, কী ক্ষতি হতে পারে অর্থনীতিতে?

The NewsNest Desk : বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। কিন্তু সেই অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি দেশের সামনে তৈরি হচ্ছে একেবারে অন্য ধরনের চ্যালেঞ্জ। দ্রুত কমছে জন্মহার, বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু। ফলে আগামী কয়েক দশকে ভারত ক্রমশ প্রবীণ মানুষের দেশে পরিণত হতে পারে। আর অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দেশ ধনী হওয়ার আগেই যদি জনসংখ্যার বড় অংশ বয়স্ক হয়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে শ্রমবাজার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, পেনশন এবং ভোগব্যয়ের ওপর।

আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিজের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪৯ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের অন্যতম ‘বৃদ্ধ’ জনসংখ্যার দেশে পরিণত হতে পারে। পরিস্থিতি আরও দ্রুত বদলালে ২০৬৫ সালের মধ্যে ভারত ‘অতি বয়স্ক’ জনসংখ্যার দেশেও পরিণত হতে পারে।

অর্থাৎ, ভারতকে ‘বয়স্ক’ থেকে ‘অতি বয়স্ক’ জনসংখ্যার দেশে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে মাত্র ১৬ বছর। তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই সময় লাগতে পারে প্রায় ১৯ বছর এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ২৯ বছর।

জন্মহার কমছে, বাড়ছে গড় আয়ু

ভারতের জনসংখ্যার চরিত্র বদলের অন্যতম প্রধান কারণ জন্মহার কমে যাওয়া। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রজনন হার বা ফার্টিলিটি রেট এখন রিপ্লেসমেন্ট লেভেলের নিচে। জনসংখ্যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাধারণত ২.১-এর কাছাকাছি প্রজনন হারকে প্রয়োজনীয় ধরা হয়।

ভারতের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ১.৯। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো উচ্চ জন্মহারের রাজ্যগুলিকে বাদ দিলে তা আরও নেমে প্রায় ১.৬-এ পৌঁছতে পারে বলে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, গত কয়েক দশকে মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৯৫০-এর দশকে ভারতে প্রতি হাজারে মৃত্যুহার ছিল প্রায় ২২.৭। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬.৪ থেকে ৬.৬-এর মধ্যে। একই সময়ে ভারতীয়দের গড় আয়ু প্রায় ৩২ বছর থেকে বেড়ে ৭২ বছরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

অর্থাৎ মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচছেন, কিন্তু নতুন প্রজন্মের সংখ্যা আগের তুলনায় কমছে। এই দুই প্রবণতার মিলিত ফলেই দ্রুত বদলে যাচ্ছে ভারতের জনসংখ্যার কাঠামো।

‘তরুণ ভারত’ কত দিন থাকবে?

এখনও ভারতকে বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনসংখ্যার দেশ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেই চিত্র খুব দ্রুত বদলাতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সময়ে ৮০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে ২৭৯ শতাংশ।

আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে শিশু ও প্রবীণ জনসংখ্যার অনুপাতে। ২০৪৬ সালের মধ্যে ভারতে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর অর্থ, আজকের তরুণ ভারত আগামী কয়েক দশকে এমন একটি সমাজে পরিণত হতে পারে যেখানে কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় নির্ভরশীল প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক—এটাই বড় চিন্তা

বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিজে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং মানুষের আয়ু বৃদ্ধি একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার উন্নতিরও ইঙ্গিত দেয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একটি দেশ পর্যাপ্ত সম্পদ তৈরি করার আগেই তার জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে যায়।

জাপান, ইতালি, জার্মানি কিংবা স্পেনের মতো দেশে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি। জাপানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। ইতালিতে এই হার প্রায় ২৪ শতাংশ।

তবে এসব দেশ তুলনামূলকভাবে উচ্চ আয়ের পর্যায়ে পৌঁছানোর পর জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমেছে। ভারতের ক্ষেত্রে আশঙ্কা হলো, দেশটি এখনও মধ্যম আয়ের অর্থনীতির পর্যায়ে থাকা অবস্থাতেই দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যার দিকে এগোচ্ছে।

চাপ বাড়বে শ্রমবাজারে

কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত কমতে থাকলে সবচেয়ে আগে চাপ পড়তে পারে শ্রমবাজারে। কর্মীর সংখ্যা কমলে শ্রমের জোগান কমবে এবং উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

একই সঙ্গে বাড়বে প্রবীণদের স্বাস্থ্য পরিষেবা, পেনশন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন। পরিবারে তরুণ সদস্যের সংখ্যা কমে গেলে বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও তুলনামূলকভাবে কম মানুষের ওপর এসে পড়তে পারে।

শুধু সরকারি খরচ নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বাজারেও। শিশু ও তরুণ উপভোক্তার সংখ্যা কমলে আবাসন, শিক্ষা, গাড়ি, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদার ধরন বদলে যেতে পারে।

ভারতের অর্থনীতির সামনে নতুন প্রশ্ন

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় শক্তি ছিল বিশাল কর্মক্ষম জনসংখ্যা এবং বিপুল অভ্যন্তরীণ বাজার। কিন্তু জন্মহার কমতে থাকলে সেই জনমিতিক সুবিধা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।

এই কারণেই ভারতের সামনে এখন শুধু দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—ভবিষ্যতের প্রবীণ জনসংখ্যার জন্য দেশ কতটা প্রস্তুত।

মুডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারকেরা এখন কী ধরনের পদক্ষেপ নেন, তার ওপর নির্ভর করতে পারে এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, নাকি নতুন ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে তাই ভারতের সামনে আরও একটি বড় বাস্তবতা—বড় অর্থনীতি হওয়ার আগেই যদি দেশ দ্রুত বয়স্ক হয়ে যায়, সেই পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।