Bengali news anchor and journalist Papiya Singh dies at 47 after a long battle with cancer.

Bengali news Anchor: ‘ফিরছি বিরতির পরে’—আর ফেরা হল না, প্রয়াত সংবাদ পাঠিকা পাপিয়া সিংহ

The NewsNest Desk: সকালেই কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবরে মন ভার ছিল। তার মধ্যেই বাংলা সংবাদজগতে নেমে এল আরও এক শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন পরিচিত সংবাদ পাঠিকা ও সাংবাদিক পাপিয়া সিংহ। বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে সংবাদ পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাপিয়া। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ, সংযত উপস্থাপনা এবং গম্ভীর কণ্ঠস্বর তাঁকে বাংলা সংবাদমাধ্যমের পরিচিত মুখ করে তুলেছিল। স্টার আনন্দের সূচনালগ্ন থেকেই পর্দায় তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পরবর্তীতে চ্যানেলটির নাম হয় এবিপি আনন্দ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল পাপিয়ার। প্রায় ছ’মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ১২টি কেমোথেরাপিও নিতে হয়েছিল তাঁকে। কেমোথেরাপি শুরু হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর ইমিউনোথেরাপি চলছিল। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। টলিপাড়ার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিও পাপিয়া সিংহের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ পাঠিকার জীবনে ‘বিরতি’ ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি শব্দ। দর্শকদের উদ্দেশে খবরের মাঝখানে বহুবার বলতে শোনা গিয়েছে পাপিয়াকে—‘ফিরছি বিরতির পরে’। কিন্তু এবার সেই বিরতির পর আর স্টুডিওতে ফেরা হল না তাঁর। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ খবর দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন পাপিয়া। তাঁর উপস্থাপনার নিজস্ব ভঙ্গি এবং কণ্ঠস্বর বাংলা টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল।তাঁর অকাল প্রয়াণে বাংলা সংবাদমাধ্যম হারাল এক অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। সহকর্মীদের স্মৃতিতে থেকে যাবে তাঁর পেশাদারিত্ব, পর্দার সামনে শান্ত উপস্থিতি এবং সেই বহুল পরিচিত কণ্ঠস্বর। জীবনের শেষ লড়াইটিও নীরবে লড়ে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার সত্যিই আর বলা হবে না—‘ফিরছি বিরতির পরে’।