Eiffel Tower chief Patrick Branco Ruivo to leave after controversy over women staff being moved during a Hindu delegation’s visit.

Eiffel Tower: হিন্দু প্রতিনিধিদলের জন্য মহিলা কর্মীদের সরানো! বিতর্কের পর বিদায় আইফেল টাওয়ারের প্রধানের বিদায়

The NewsNest Desk:  আইফেল টাওয়ারে আসা এক হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যাতে মহিলা কর্মীদের কোনও যোগাযোগ না হয়, সে জন্য তাঁদের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। এই ঘটনার জেরে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায় এবং পরে তদন্তও শুরু হয়। এবার আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা এসইটিই-র প্রধান প্যাট্রিক ব্রাঙ্কো রুইভো জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষেই তিনি পদ ছাড়বেন।

প্যাট্রিক ২০১৮ সাল থেকে Société d’Exploitation de la Tour Eiffel বা SETE-র ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সংস্থাটি আইফেল টাওয়ার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। SETE-র তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির ৯৯ শতাংশ মালিকানা প্যারিস শহরের হাতে। ঘটনাটি ঘটে গত ৫ সেপ্টেম্বর। প্রায় ১০০ জনের একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ারে যায়। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই প্রতিনিধিদলের সফরের সময় মহিলা কর্মীদের কয়েকজনকে নিজেদের কাজের জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়। এমনকি দলের সদস্যদের সামনে দিয়ে যাতে তাঁরা না যান, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে কর্মীদের অভিযোগ। তাঁদের পরিবর্তে পুরুষ কর্মীদের কয়েকজনকে দায়িত্বে রাখা হয়।

ঘটনার পর আইফেল টাওয়ারের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। কর্মীদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে একদিন দর্শকদের জন্য আইফেল টাওয়ার বন্ধও রাখতে হয়েছিল। এরপর প্যারিস প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে SETE-র নিজস্ব তদন্তেও সফরটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘অপারেশনাল ত্রুটি ও ঘাটতি’র কথা উঠে আসে। মহিলা কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে সংস্থার তরফে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা নিয়ে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ফরাসি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে জানান, বিদেশি দর্শনার্থীদের কোনও দাবির কারণে মহিলাদের নিজেদের কাজের জায়গা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা মেনে নেওয়া যায় না। প্যারিসের মেয়রও ঘটনার সমালোচনা করে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার কেন্দ্রে থাকা সংগঠন বোচাসানবাসি অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা বা BAPS পরে বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে। সংগঠনটি জানায়, তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান ও সেবার মতো সর্বজনীন মূল্যবোধ। BAPS-এর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা রাখার কিছু রীতি রয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, এই ব্যবস্থা মহিলাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই চালু করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, ধর্মীয় রীতির নামে মহিলা কর্মীদের কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক।

আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য প্যাট্রিক রুইভোর বিদায়ের সিদ্ধান্তকে সরাসরি ওই ঘটনার জন্য পদত্যাগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে তাঁর নেতৃত্বে সংস্থার সময়কাল শেষ হওয়ার আগে এই বিতর্ক এবং তদন্তের ফলাফল নতুন করে আলোচনায় এসেছে।