রোম, ২১ সেপ্টেম্বর: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরখা ও নিকাবের মতো মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে দেশের স্কুলগুলিতে প্রতি শ্রেণিতে বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও এই সিদ্ধান্ত আইন হয়নি। সরকারের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় যাওয়ার পর সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
রবিবার নিজের দল ‘ব্রাদার্স অব ইটালি’র যুব শাখার একটি অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, স্কুলে পড়ুয়ার মুখ খোলা থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য, ইটালিতে বসবাস করতে হলে বিদেশিদের দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। যে বিদেশি পড়ুয়াদের স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের বাবা-মায়ের জন্য ইটালীয় ভাষা শেখার ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত নীতিতে রাখা হচ্ছে।
ইটালির স্কুলে বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনাটিও ইতিমধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে। সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে সিবিএস জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট স্কুলপড়ুয়ার প্রায় ১১.৬ শতাংশের নাগরিকত্ব ইটালির নয়। তবে প্রতি শ্রেণিতে বিদেশি পড়ুয়ার সুনির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সংখ্যা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
আরও পড়ুন: Hajj 2027: ২০২৭ সালের হজে যেতে পারবেন না কারা? ১৫ বছরের কম শিশু-সহ তালিকায় কারা
বোরখা-নিকাব নিষেধের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, মুখঢাকা পোশাকের উপর নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তির নীতির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। মিলানের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মারিয়াগ্রাজিয়া সান্তাগাতি বলেছেন, ইটালির সরকারি স্কুল ঐতিহাসিক ভাবে বিভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের পড়ুয়াদের একসঙ্গে শিক্ষার সুযোগ দেয়; তাই নতুন বিধি বাস্তবে কী ভাবে প্রয়োগ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যেই মুখঢাকা পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। ইটালিতে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে পরিচয় গোপন করে এমন পোশাকের উপর বিধিনিষেধের ব্যবস্থা থাকলেও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পোশাক নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার বিষয়টি আরও জটিল। ফলে মেলোনির নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: Rishi Sunak: ‘বাদামি হিন্দু’ বলে কি ইংরেজ হওয়া যায় না? ত্বকের রঙ ও জাতীয়তা নিয়ে সরব ঋষি সুনক