নেদারল্যান্ডসের মিনা গেলটিঙ্ক এবং মিনাল টিসেনের জীবনের গল্প সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। কিশোরী বয়সে একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। প্রথম দেখাতেই দুজন পরস্পরের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পান। ঠিকানা ও ফোন নম্বর বিনিময়ের পর নিয়মিত চিঠি চালাচালির মাধ্যমে তাঁরা একে অপরের ঘনিষ্ট বন্ধু হয়ে ওঠেন।
আশির দশকে ভারতের মুম্বইয়ে জন্ম হয় মিনা ও মিনালের। জন্মের মাত্র কয়েক মাস পর মুম্বইয়ের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে তাঁদের দত্তক নেয় নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার। কৈশোরে প্রথম সাক্ষাতেই দুজনে বুঝতে পেরেছিলেন তাঁদের নাক ও হাসির গড়নে হুবহু মিল রয়েছে। এমনকি বন্ধুরা তাঁদের আয়নায় মুখ দেখার পরামর্শও দিয়েছিল। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায় এবং প্রায় ১৫ বছর আগে মিনাল ফ্রান্সে চলে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২০১৭ সালে ভারত থেকে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে ডিএনএ পরীক্ষার কথা জানতে পেরে মিনা নিজের ডিএনএ টেস্ট করান। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো মিল না পাওয়ায় তিনি অ্যাপটি ফোন থেকে মুছে ফেলেন। এরপর চলতি বছরের ২০ মে ফেসবুকে মিনালের একটি বার্তা সব বদলে দেয়। ‘আমাকে মনে আছে?’—এই মেসেজ পেয়ে মিনা ফের অ্যাপটি ইনস্টল করেন এবং ১০০ শতাংশ ডিএনএ মিল দেখতে পান। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ছোটবেলার বন্ধু আর কেউ নন, তাঁরই আপন বোন মিনাল।
গত আগস্টে দুই বোন হিসেবে নতুন করে মুখোমুখি হন তাঁরা। দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পর ভাগ্যের কি এক অদ্ভুত ফেরে দুই বন্ধু আজ রক্তের সম্পর্কে ফিরে পেলেন একে অপরকে।