গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু হল পুলিশের গুলিতে। বুধবার ভোরে অসমের শিবসাগর জেলায় পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সেই সময় পুলিশ গুলি চালালে গুরুতর জখম হয় ৩৪ বছর বয়সি গগৈ। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে অসমে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোর প্রায় ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ শিবসাগর জেলার গৌরীসাগর থানার অন্তর্গত রংমন ধাবার কাছে ঘটনাটি ঘটে। গুয়াহাটি থেকে অন্য একটি মামলার সূত্রে গগৈকে শিবসাগরে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। পথে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থামানোর অনুরোধ করে অভিযুক্ত। গাড়ি থামতেই এক পুলিশ আধিকারিকের পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে দাবি পুলিশের।
এরপর অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময় গুলির আঘাতে এক পুলিশকর্মীও আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, গগৈয়ের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আহত পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবসাগরের পুলিশ সুপার পাপোরি চেটিয়া জানিয়েছেন, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত ছিল গগৈ। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, গাড়ি কেনার জন্য পিএনবি থেকে ঋণ নেওয়ার পর কিস্তি পরিশোধ করেনি সে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কের তৎকালীন শাখা ম্যানেজার দেবব্রত বরগোহাঁইকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এই মামলায় গগৈকে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। ৩ নভেম্বর গুয়াহাটি আদালত তার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে শিবসাগর পুলিশের একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সেই সময়ই এই এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের বক্তব্য।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির বড়া সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান পাঁচ জন। তদন্তে উঠে আসে, হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে লিজ সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। হোটেলের ভাড়ার চুক্তি এবং সংস্কার নিয়ে মতবিরোধের জেরে বৈঠকের আগেই বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই উত্তেজনার মধ্যেই গুলি চালায় ঘনকান্ত গগৈ।
পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্তের মৃত্যুতে তদন্তের নতুন অধ্যায় শুরু হল। তবে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় কী কী আইনি ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে, তা এখন নজরে।