Bhoot Chaturdashi: Why Bengalis eat 14 leafy greens on Bhoot Chaturdashi: The traditional ritual, its cultural significance and seasonal health benefits.

Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর দিন বাড়িতে কেন চোদ্দ শাক খাওয়া হয়? জানুন পুরাণ কী বলছে

Thenewsnest: কালীপুজোর আগের দিন আপনার বাড়িতেও কি রান্না হয় চোদ্দ শাক? ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi) এলেই বাঙালির বহু বাড়িতে এই বিশেষ পদ রান্নার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। মা-ঠাকুমাদের হাত ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও বাংলার ঘরে ঘরে যথেষ্ট জনপ্রিয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিনে ১৪ শাক না খেলে অশুভ শক্তির প্রভাব পড়তে পারে। আবার ভূত চতুর্দশীর রাতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার রীতিও রয়েছে। কিন্তু শুধুই কি ভূত তাড়ানোর বিশ্বাস? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতি, ঋতু পরিবর্তন এবং শরীর সুস্থ রাখার প্রাচীন ভাবনা?

শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, পালিত হবে ভূত চতুর্দশী। দীপাবলি ও কালীপুজোর ঠিক আগের এই দিনটি বাঙালির লোকাচার ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি শুধু একটি খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাক খাওয়ার নেপথ্যে কী বিশ্বাস?

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর দিন ভূত-প্রেত ও অশুভ শক্তিরা দলবল নিয়ে মর্ত্যে আসে। সেই অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে পরিবারকে রক্ষা করতেই বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। পাশাপাশি ১৪ শাক খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, এই প্রথা পালন করলে অশুভ শক্তি দূরে থাকে এবং বাড়িতে শুভ শক্তির আগমন ঘটে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বিশ্বাস বাঙালির ঘরোয়া সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কালীপুজোর প্রস্তুতির মধ্যেই তাই ভূত চতুর্দশীর দিন চোদ্দ শাক রান্না করা বহু পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি। তবে এই প্রথার পিছনে কেবল ধর্মীয় বা লোকবিশ্বাসই রয়েছে, এমন নয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্কও এর অন্যতম ব্যাখ্যা বলে মনে করা হয়।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ১৪ শাকের সম্পর্ক কী?

হেমন্তের শুরুতে আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে। গরম থেকে ঠান্ডার দিকে এগোয় প্রকৃতি। এই সময় অনেকের শরীরে নানা ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। প্রাচীন বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে মরশুমি শাকপাতার গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। বিভিন্ন ধরনের শাক খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে নানা পুষ্টি উপাদান পৌঁছত। সবুজ শাকপাতায় সাধারণত ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, আঁশ এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। তাই মরশুমি শাক খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

কোন কোন শাক দিয়ে তৈরি হয় চোদ্দ শাক?

ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ শাকের তালিকা অঞ্চলভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। বাংলার প্রচলিত একটি তালিকায় রয়েছে—

  • পলতা শাক

  • সর্ষে শাক

  • নিম পাতা

  • শুশনি শাক

  • জয়ন্তী শাক

  • ওল শাক

  • ঘেঁটু বা ভাট শাক

  • কেঁউ শাক

  • বেতো শাক

  • শেলুকা

  • হিঞ্চে শাক

  • গুলঞ্চ শাক

  • শাঞ্চে শাক

  • কালকাসুন্দে শাক

এই শাকগুলি একসঙ্গে সংগ্রহ করে পরিষ্কার করে রান্না করা হয়। অনেক বাড়িতে ভাজা, আবার কোথাও মিশ্র শাকের তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসে চোদ্দ শাক খাওয়ার মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের উৎসবের আমেজ।

ঐতিহ্য ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ শাক বাঙালির এমন এক ঐতিহ্য, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকাচার এবং মরশুমি খাদ্যাভ্যাস একসঙ্গে মিশে গিয়েছে। আধুনিক সময়ে এই প্রথার তাৎপর্য নিয়ে নানা ব্যাখ্যা সামনে এলেও বাঙালির কাছে এর আবেগ আজও অটুট।

আরও পড়ুন : Kali Puja 2026: কালী পুজোর আগে চোদ্দ শাক খাওয়ার নিয়ম, কোন শাকের কী গুণ

বিশেষ দ্রষ্টব্য – এই প্রতিবেদনের বক্তব্য হিন্দুশাস্ত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য। এই বিষয়ে কোনও দায় নেই The Newsnest- এর।