Indian Railways tightens the overnight charging ban from 11 PM to 5 AM following a power bank explosion.

Indian Railways রাত ১১টা বাজলেই বন্ধ ট্রেনের চার্জিং পয়েন্ট! যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যে কোপ, নিরাপত্তা নাকি পরিকাঠামোর দুর্বলতা?

দূরপাল্লার ট্রেনে রাতের যাত্রায় মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে গেলে এবার থেকে সমস্যায় পড়তে পারেন যাত্রীরা। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের কোচে থাকা মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করতে বলেছে রেল বোর্ড। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে চার্জিং পয়েন্টে সংযুক্ত একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া বেরনোর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় রেল। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা নির্দেশে সমস্ত জোনের রেলকর্মীদের নিয়ম মেনে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং আধিকারিক ও সুপারভাইজারদের আকস্মিক পরিদর্শনের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে কড়া হচ্ছে পুরনো নিয়ম

রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০১৪ সালের ১৯ জুন রেল বোর্ড এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তার আগে ২০১৩ সালে হজুর সাহিব নান্দেড়–কেএসআর বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসের একটি এসি থ্রি-টিয়ার কোচে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছিলেন কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি।

সাম্প্রতিক ঘটনায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের একটি ট্রেনে নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করা হয়নি। সেই সময় চার্জে থাকা এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া বেরোয়। এই ঘটনার পর রেল বোর্ড ফের পুরনো নির্দেশ কার্যকর করার উপর জোর দিয়েছে। নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে কোনও ব্যতিক্রম করা যাবে না।

নিরাপত্তা বনাম যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য

চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সীমিত জায়গায় অসংখ্য যাত্রী, রাতের ঘুম এবং ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে সামান্য বৈদ্যুতিক ত্রুটিও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় কোনও যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে তা সময়মতো নজরে না আসার আশঙ্কা থাকে। সেই দিক থেকে চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্তকে নিছক যাত্রীবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না।

কিন্তু প্রশ্ন হল, নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য কমিয়ে দেওয়াই কি একমাত্র পথ? আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এখন আর বিলাসিতা নয়। অফিসের কাজ, অনলাইন টিকিট পরীক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা গন্তব্যে পৌঁছে গাড়ি বুক করা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চার্জযুক্ত ফোনের প্রয়োজন।

রাতের ছয় ঘণ্টা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ থাকা অনেকের কাছে সামান্য অসুবিধা হলেও, অন্যদের ক্ষেত্রে তা বাস্তব সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষত যাঁদের দীর্ঘ যাত্রার পরেই কাজে যোগ দিতে হয়, তাঁদের কাছে ফোনের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়া যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।

পরিকাঠামোর দুর্বলতার বিকল্প কি নিষেধাজ্ঞা?

রেলযাত্রার অভিজ্ঞতা সময়ের সঙ্গে বদলেছে। একসময় বই পড়া, জানালার বাইরে দৃশ্য দেখা কিংবা সহযাত্রীর সঙ্গে গল্প করেই দীর্ঘ যাত্রার সময় কাটত। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় চার্জিং পয়েন্ট যাত্রীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে নিরাপত্তার প্রশ্নে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি রেল পরিকাঠামোর সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা জরুরি।

চার্জিং পয়েন্ট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা মোকাবিলায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ শনাক্তকরণ এবং উন্নত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারই কি সীমিত করে দেওয়া হবে, না কি আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে?

উন্নত প্রযুক্তিতে কি কমানো সম্ভব ঝুঁকি?

বৈদ্যুতিক সংযোগে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, অতিরিক্ত বিদ্যুৎপ্রবাহ কিংবা শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা শনাক্ত করতে উন্নত সেন্সর ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সাহায্যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে শুধু প্রযুক্তি যুক্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তাবিধির যথাযথ প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

যাত্রীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চার্জার ব্যবহার না করা, অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যাওয়া পাওয়ার ব্যাঙ্কের দিকে নজর রাখা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে রেলকর্মীদের জানানো জরুরি। তবে যাত্রীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েই রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না।

ভারতীয় রেল যখন আধুনিকীকরণের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন নিরাপত্তা ও যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যকে পরস্পরের পরিপূরক করে তোলাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। রাতের চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখা আপাতত একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য আসবে তখনই, যখন উন্নত নিরাপত্তা পরিকাঠামোর মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যাবে, অথচ যাত্রীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে না।