The Newsnest Desk : শহরের কংক্রিটের জাঁতাকলে একটুখানি প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ছাদবাগান বা রুফটপ গার্ডেনিং এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এই শখের ছাদবাগানকে আরও আকর্ষণীয় ও লাভজনক করে তুলেছে বিদেশি ফল ড্রাগন। ক্যাকটাস জাতীয় এই অদ্ভুত সুন্দর গাছটি কেবল দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। সামান্য একটু সচেতনতা আর সঠিক পরিচর্যা জানলে ছাদের টবেই ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব।
টব বা ড্রাম নির্বাচন ও মাটি প্রস্তুত: ড্রাগন গাছের শিকড় খুব বেশি গভীরে যায় না, তবে এর বিস্তার ভালো হয়। তাই গাছ লাগানোর জন্য অন্তত ২০ থেকে ২৫ ইঞ্চি প্রশস্ত টব বা ড্রাম বেছে নেওয়া উচিত। টবের নিচে অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের বা ড্রেনেজ হোল থাকতে হবে। মাটি তৈরির ক্ষেত্রে দোআঁশ মাটির সাথে সমপরিমাণ ভালোভাবে পচে যাওয়া গোবর সার, পাতাঝরা সার এবং সামান্য বালি বা কোকোপিট মিশিয়ে হালকা ও ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করে নিতে হবে।
রোদ ও পানি ব্যবস্থাপনা: ড্রাগন গাছ মূলত রোদপছন্দ উদ্ভিদ। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পায়—এমন খোলা জায়গায় টব বা ড্রামটি স্থাপন করতে হবে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় এর কান্ডে প্রচুর পানি জমা থাকে, ফলে অতিরিক্ত পানি পেলে শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই পরিমিত পরিমাণে পানি দিতে হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা জরুরি।
মাচা বা খুঁটির ব্যবহার: ড্রাগন গাছ লতানো স্বভাবের হওয়ায় এটি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। গাছটিকে ওপরের দিকে টিকিয়ে রাখতে এবং লতা ছড়াতে একটি শক্ত বাঁশের খুঁটি বা সিমেন্টের পিলার এবং ওপরে একটি রিং বা কাঠামোর ব্যবস্থা করতে হবে। খুঁটি ধরে গাছ উপরে ওঠার পর এর ডালপালা চারপাশে ঝুলিয়ে দিলে খুব দ্রুত ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে।
সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমন: গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য প্রতি দুই-তিন মাস অন্তর জৈব সার ও পরিমিত পটাশ বা ফসফরাস জাতীয় সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া পোকাড় আক্রমণ বা ছত্রাকজনিত সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনে অনুমোদিত জৈব কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক স্প্রে করা ভালো। সঠিক নিয়ম মেনে নিয়মিত এই সামান্য যত্নটুকু নিলেই ছাদের ড্রাগন গাছ থেকে মিলবে মিষ্টি ও সুস্বাদু লাল টকটকে ফল।
আরও পড়ুন: Balcony Garden: বারান্দায় রোদ আসে না? জেনে নিন গাছ লাগানোর সহজ উপায়