The NewsNest Desk : ইসরাইলের নির্বাচনে সরকার গঠন ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর শাসক জোট এবং বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট—দুই পক্ষই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে রয়েছে। ফলে আগামী সরকার গঠনের জন্য শুরু হতে পারে দীর্ঘ দরকষাকষি। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলির আসনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬১টি আসন। প্রাথমিক বুথফেরত সমীক্ষায় নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের শিবিরের আসনসংখ্যা প্রায় সমান বলে ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে ভোটগণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ছবিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর্যায়ে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং আইজেনকোটের বিরোধী শিবির ৪৮টি আসন পেতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়। চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা রয়েছে।
আরব দলগুলির দিকে নজর
এ বারের নির্বাচনে আরব দলগুলির সমর্থন উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৬ থেকে ১৯-এর মধ্যে থাকতে পারে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য এই দলগুলির সমর্থন বিরোধী শিবিরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে জোট গঠনের পথে রয়েছে রাজনৈতিক বাধাও। নেতানিয়াহু আরব দলগুলির সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। আইজেনকোটের শিবিরও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে শর্ত রেখেছে। ফলে সমর্থন আদায়ের আলোচনা সহজ হবে না।
কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ?
কোনও শিবির প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পারলে সংখ্যালঘু সরকার, বৃহত্তর ঐক্য সরকার কিংবা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে আসতে পারে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং রাষ্ট্রপতির সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরেই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
গাজায় যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে হিংসা এবং ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে এই নির্বাচন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।