The NewsNest Desk : একটি শরীর, কিন্তু মাথা দু’টি! সঙ্গে চারটি চোখ(Two Headed Snake)। এমনই বিরল চেহারার একটি সাপ উদ্ধার হয়েছে গুজরাটে। দাহোদ জেলার ধানপুর তালুকের একটি কৃষিজমি থেকে উদ্ধার হওয়া এই ছোট্ট সাপটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার আগে সাপটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আগাসওয়ানি গ্রামের কাছে সাপটিকে দেখতে পান কয়েকজন। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন প্রকৃতি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ‘প্রকৃতি মিত্র মণ্ডল’-এর সদস্যরা। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখেন, সাপটির শরীর একটি হলেও মাথা দু’টি এবং দু’টি মাথাতেই আলাদা চোখ রয়েছে।
বিষধর নয়, কিন্তু কেন দু’টি মাথা?
উদ্ধারকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাপটি একটি উলফ স্নেক। এই প্রজাতি বিষধর নয় এবং সাধারণত মানুষের জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচিত হয় না। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি।
এই অদ্ভুত গঠনের পিছনে রয়েছে ‘বাইসেফালি’ নামে একটি বিরল শারীরিক বিকাশজনিত ত্রুটি। প্রাণীর ভ্রূণ তৈরি হওয়ার সময় স্বাভাবিক বিভাজন সম্পূর্ণ না হলে একই শরীরের সঙ্গে দু’টি মাথা তৈরি হতে পারে।
আরও আশ্চর্যের বিষয়, উদ্ধারকারীদের পর্যবেক্ষণে দু’টি মাথাই আলাদা ভাবে কাজ করছে বলে মনে হয়েছে। অর্থাৎ চলাফেরা বা আশপাশের পরিস্থিতিতে দু’টি মাথা আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
বাঁচা কঠিন কেন?
দু’টি মাথা থাকা দেখতে যতটা চমকপ্রদ, বন্য পরিবেশে এই ধরনের প্রাণীর জীবন ততটাই কঠিন। একই শরীরকে দু’টি মাথা নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে চলাফেরা, খাবার খোঁজা কিংবা বিপদ থেকে পালানোর সময় সমন্বয়ের সমস্যা হতে পারে।
এই কারণেই দুই মাথার সাপের মতো প্রাণীদের স্বাভাবিক পরিবেশে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
প্রকৃতি মিত্র মণ্ডলের সদস্যরা জানিয়েছেন, গুজরাটে এই ধরনের দুই মাথার সাপ উদ্ধারের ঘটনা প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। উদ্ধার হওয়া সাপটির ছবি বিশেষজ্ঞদের কাছেও পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রজাতি ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য আরও নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করা যায়।
একটি ছোট্ট সাপকে ঘিরে এই ঘটনা তাই শুধু চমক নয়, প্রাণীর ভ্রূণগত বিকাশ কতটা জটিল হতে পারে, তারও এক বিরল উদাহরণ।