The NewsNest Desk : ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম ঘিরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। ইসরাইলের ঘোষণার পর কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন ব্রিটিশ কূটনীতিক ইসরাইল ছাড়ছেন। তবে কনস্যুলেট ভবনটি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। সীমিত পরিসরে কাজ চালিয়ে যেতে সেখানে সাত সদস্যের একটি ব্রিটিশ টাস্কফোর্স থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, ব্রিটিশ কূটনীতিকদের বড় একটি অংশকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাবে, ইসরাইল তা চায়নি।
তবে যুক্তরাজ্যের বক্তব্য, নিরাপত্তার কারণেই কিছু কর্মীকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, কনস্যুলেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না এবং মিশনটি ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
কেন এতটা উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে?
পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের টানাপোড়েন নতুন নয়। গত মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইসরাইল।
ইসরাইল জানিয়েছিল, ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কনস্যুলেটটি চালু রাখার জন্য ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায় যুক্তরাজ্য।
শেষ পর্যন্ত কনস্যুলেট ভবন পুরোপুরি বন্ধ না হলেও এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কনসাল জেনারেলসহ ২০ জন কূটনীতিক তাঁদের দায়িত্ব শেষ করে দেশ ছাড়বেন। অন্যদিকে সাতজনের একটি টাস্কফোর্স কনস্যুলেট ভবনে থেকে সীমিত পরিসরে কাজ করবে।
১৮৩ বছরের পুরোনো কনস্যুলেট
জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৮৩৮ সালে শহরটিতে প্রথম ব্রিটিশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই মিশনের মাধ্যমে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে এসেছে।
তবে পূর্ব জেরুজালেমের এই কনস্যুলেট তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে আলাদা। ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধান কূটনৈতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হলো তেল আবিবের দূতাবাস।
এ কারণেই পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।
নিষেধাজ্ঞা থেকেই শুরু নতুন টানাপোড়েন
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নেওয়া পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ বলে বিবেচিত।
ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ইসরাইল পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চাপ বাড়ছিল।
ইসরাইলের বক্তব্য, তারা ঘোষিত পাল্টা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করেছে, কনস্যুলেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে নিরাপত্তার কারণে কর্মী কমানো হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।
কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন চাপ
কনস্যুলেট নিয়ে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এবং ইসরাইলের নীতির মধ্যে পার্থক্যও ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে।
পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ২১ জন ব্রিটিশ কূটনীতিকের চলে যাওয়া দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে, সীমিত কর্মী নিয়ে ব্রিটিশ কনস্যুলেট কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং এই সিদ্ধান্তের পর ইসরাইল-যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও কঠিন পর্যায়ে যায় কি না।