The NewsNest Desk: কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ কিংবা প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য—সাহিত্যের কোনও একটি ঘরানায় নিজেকে আটকে রাখেননি কানাডার লেখক অ্যানে কারসন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সাহিত্যচর্চায় বারবার ভেঙেছেন প্রচলিত কাঠামো, খুঁজেছেন লেখার নতুন ধরন ও ভাষার নতুন অর্থ। সেই সৃজনশীলতার স্বীকৃতিই এবার এল বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল সাহিত্যে। বৃহস্পতিবার অ্যানে কারসনের নাম সাহিত্যে নোবেলজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
নোবেল কমিটির বক্তব্য, কারসনের ছকভাঙা ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত সাহিত্যরীতির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি লেখায় তৈরি করেছেন নিজস্ব ফর্ম এবং ভাবনার জগৎ। তাঁর সাহিত্যকর্মে কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ এবং প্রাচীন সাহিত্যের নানা উপাদান একসঙ্গে মিশে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
অধ্যাপনা থেকে সাহিত্যচর্চা
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টো শহরে জন্ম অ্যানে কারসনের। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় তিনি অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন সাহিত্যচর্চা। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে তাঁর আগ্রহ ও গবেষণা তাঁকে সাহিত্যজগতে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। শুধু নিজের লেখা নয়, অনুবাদক হিসেবেও কারসনের খ্যাতি রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে অনুবাদের ক্ষেত্রেও তিনি কেবল আক্ষরিক অর্থে আটকে থাকেননি। পুরনো সাহিত্যকে নিজের আধুনিক সাহিত্যবোধের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী সময়ে শুরু হয় তাঁর নিজস্ব সাহিত্যসৃষ্টির পর্ব। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত Autobiography of Red তাঁকে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে আরও পরিচিত করে তোলে। পদ্যের আঙ্গিকে লেখা এই উপন্যাসধর্মী কাজটি তাঁর স্বতন্ত্র লেখার ধরনকে সামনে নিয়ে আসে।
লেখায় দুই সত্তার সংঘাত
সমালোচকদের মতে, কারসনের লেখায় এক ধরনের দ্বৈত সত্তার উপস্থিতি বারবার চোখে পড়ে। একদিকে তিনি অধ্যাপক—শব্দ, ভাষা এবং সাহিত্যের কাঠামো নিয়ে গভীরভাবে সচেতন। অন্যদিকে তাঁর কবিসত্তা তাঁকে প্রচলিত সীমার বাইরে যেতে এবং নতুন অর্থের সন্ধান করতে তাড়িত করে।এই দুই প্রবণতার মেলবন্ধনই তাঁর লেখাকে আলাদা করে তুলেছে। তাঁর সাহিত্যকর্মে যেমন রয়েছে গবেষণা ও বিশ্লেষণের ছাপ, তেমনই রয়েছে কবিতার স্বাধীনতা এবং কল্পনার বিস্তার। ফলে তাঁর লেখা সহজে কোনও একটি নির্দিষ্ট সাহিত্যধারার মধ্যে ফেলে দেওয়া যায় না।
কানাডার পাশাপাশি আইসল্যান্ডের নাগরিকত্ব
৭৬ বছর বয়সে এসে আন্তর্জাতিক খ্যাতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও প্রচারের আলো থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই পছন্দ করেন কারসন। কানাডার পাশাপাশি তিনি আইসল্যান্ডের নাগরিকত্বও নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তিনি ছিলেন আইসল্যান্ডেই। তবে নোবেল কমিটির স্বীকৃতিতে তিনি কানাডার লেখক হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছেন। দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রার শেষে তাঁর এই নোবেলজয় শুধু কানাডার সাহিত্যেই নয়, সমকালীন বিশ্বসাহিত্যে নতুন ধরনের লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Strait of Hormuz: হরমুজে ফের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, আহত ১১ ভারতীয় নাবিক; ওমানে নিয়ে চিকিৎসা